টিকফা: যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে অধিকতর শুল্ক সুবিধা চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা)-এর আওতায় ৬ষ্ঠতম বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। ৬ই ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর) ক্রিস্টোফার উইলসন নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে শ্রম সচিব মোঃ এহছানে এলাহী, কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান এবং পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডেপুটি ইউএসটিআর মিজ সারাহ বিয়ানচি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি টিকফা বৈঠককে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার,  যুক্তরাষ্ট্র হতে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকের উৎপাদন বন্টন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়ন, মেধাস্বত্ব অধিকার, গুণগত সার্টিফিকেশন অবকাঠামোর জন্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, শ্রম বিষয় এবং আইডিএফসি অর্থায়ন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বাণিজ্য সচিব উল্লেখ করেন যে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে সর্বোচ্চ শুল্ক প্রদান করে যা মার্কিন বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করছে ।
উভয় পক্ষই আমদানিকৃত মার্কিন তুলার বিষবাষ্পীকরণ নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা থেকে তৈরি বাংলাদেশী পোশাকের রপ্তানির উপর ‘শূন্য’ শুল্ক প্রস্তাব করে। মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সম্মত হন। মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের জন্য মুনাফা প্রত্যর্পণ সহজ করার অনুরোধ জানান।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ঢাকায় ফিরে বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষার আশ্বাস  দেন। উভয় পক্ষই প্রস্তাবিত ডেটা সুরক্ষা আইন, কৃষিতে বায়োটেকনোলজি, ইউএসএফডিএ-তে বাংলাদেশি ওষুধের নিবন্ধন সহজীকরণ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ‘ট্রি নাট’ রপ্তানির উপর শুল্ক হ্রাস এবং বাংলাদেশের বীজ বাজারে মার্কিন প্রবেশাধিকারের জন্য বীজ আইনের বিধানকে সহজ করার বিষয়ে আলোচনা করে। উভয় পক্ষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঢাকায় টিকফার পরবর্তী বৈঠেক (৭ম) করতে সম্মত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.