Untitled Document
** সিরাজগঞ্জের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার ** লাকসামে গৃহবধুকে ধর্ষনের দায়ে এক যুবক গ্রেফতার ** প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ! ** চৌদ্দগ্রামে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে দুই গরু ব্যবসায়ী ** চৌদ্দগ্রামে গভীর রাতে মাটি ভরাট করে সরকারী জায়গা দখলের চেষ্টা ** বাগেরহাটের ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ২ ** বড় ভাইকে গলা কেটে হত্যা, করল সৎভাই ** নিউজ টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকদের ওপর হামলা ** বেড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ – যুবক আটক ** নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত ** কুমিল্লায় স্কুল ছাএীকে অপহরণকালে লাকসামে যুবক এক আটক ** সিংড়ায় স্কুল ছাত্রকে বলাৎকার এর অভিযোগ ** মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক হাসু-কাসু বাহিনীর প্রধান আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে গ্রেপ্তার ** কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত ** পঁচিশে মার্চ একাত্তর- এক কালরাতের কাহিনী
Mar 252013
 

gnvgvb¨ ivóªcwZi †Pnjvgমহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জন্মেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। পরে ভৈরব আসেন। সেই ভৈরবই হয়ে উঠেছিল তার সবকিছু। মানুষ মারা গেলে কেউ তার ত্রুটি দেখে না, দেখা উচিতও না। কিন্তু জীবিতকালে যারা চরম গালাগাল করে, মৃত্যুর পরই তাদের সুর পাল্টানো ভালো নয়। যা সত্য, যতটুকু সত্য ততটুকু বললেই আল্লাহ খুশি হন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব জিল্লুর রহমান আর অন্য দশজন মানুষের মতোই ছিলেন। সারা জীবনে কখনও বড় ঝুঁকি নেননি, আবার পালিয়েও যাননি।
আওয়ামী রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে কেউ নন, একটু পরে এসেছেন। কিন্তু যখন এসেছিলেন তখন থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে ছিলেন। তার মোটামুটি সবচেয়ে বড় গুণ ছিল কারও কোনো উপকার করতে না পারলেও অপকার করেননি। তিনি একজন নির্বিবাদী, সুন্দর, মৃদুভাষী মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে জীবনে বহুবার মোলাকাত বা দেখাসাক্ষাৎ হয়েছে। সর্বশেষ দেখা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুল জলিলের নামাজে জানাজায়। টলমল করতে করতে তিরতিরিয়ে গুটি গুটি পায়ে প্রায় ১০ মিনিট দেরিতে এসেছিলেন। মুখ ছিল একেবারে ফ্যাকাসে। ২৫ ফেব্র“য়ারি জনাব আবদুল জলিলকে ইউনাইটেড হাসপাতালে দেখে কথাবার্তা বলে ফেরার সময় লিফট পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এসে তার স্ত্রী বলেছিলেন, ভাই, বুধবার সিঙ্গাপুর যাচ্ছি। দোয়া করবেন। ভদ্রলোকের জন্য আমার দোয়াই ছিল, বিপরীতটা একবারেই ছিল না। শুধু দোয়া আর দোয়াই করেছি তাকে। কিন্তু গাড়িতে উঠে মনে হয়েছিল এটাই মনে হয় আমাদের শেষ দেখা, তাই-ই হয়েছে। ৬ তারিখ শুনলাম অপারেশন হয়েছে। সকালে শুনেছিলাম ভালো হয়েছে। কিন্তু বিকেলেই শুনলাম তিনি আর নেই, রাতে লাশ আসবে, পরদিন ১১টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা।
যত সম্পর্কই থাকুক ইদানীং কেন জানি আওয়ামী লীগ নেতাদের জানাজায় যেতেও ইচ্ছে করে না। আখতারুজ্জামান বাবুর জানাজায় গিয়েছিলাম, সেখানে বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে দেখে ডেপুটি স্পিকার কর্নেল শওকত ইয়ার্কি করেছিলেন, ‘শুধু ভাইকে করলেন, আমাকে সালাম করলেন না?’ খুবই মর্মাহত ও বিরক্ত হয়েছিলাম। ইয়ার্কি কিংবা বেয়াদবিরও তো একটা সীমা থাকে। আজকাল আওয়ামী লীগাররা জানাজায়ও ইয়ার্কি করে। তাই মন সায় দেয় না। এমন একটি দল তারা বাইরের লোককে নিয়ে নাচানাচি করে কিন্তু কেউ দল ছাড়লে তার চরম শত্রু হয়। কিন্তু জলিল সাহেবের জানাজায় গিয়েছিলাম। খুব বেশি লোকজন দেখিনি। ৬-৭শ’ গাড়ি, হাজার পনেরশ’র বেশি লোক হবে না। জলিল সাহেবের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অফিসে একদিনে যত লোক দেখেছি মনে হয় তত লোকও হবে না। সঙ্গে কয়েকজন কর্মী ছিল, কে যেন বলেছিল, দাদা, এখন আর আওয়ামী লীগে গরিব লোক নেই। আওয়ামী লীগ এখন ধনীর দল। কথাটি অস্বীকার করতে পারিনি।
জনাব আবদুল জলিলের কুলখানিতে তার ব্যক্তিগত সহকারী দাওয়াত করেছিল। যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু যাইনি। পরিবারের কেউ কিছু বলেনি, আর পরদিন ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়াতে দেখলাম আওয়ামী লীগ ছাড়া বাইরের কোনো লোক সেখানে যায়নি। আওয়ামী লীগ একটা বড় গোষ্ঠী, তাদের বাইরের লোক না হলেও চলে। তাই এখন আর আওয়ামী ঘরানার কারও কোনোকিছুতে যেতে তেমন ইচ্ছে করে না। তবু এমন দু’চারজন আছেন, যাদের কথা বড় বেশি করে মনে পড়ে। তাদের মধ্যে জনাব আবদুল জলিল ছিলেন একজন। সদ্য প্রয়াত মহামান্য রাষ্ট্রপতি কখনও অত কাছাকাছি ছিলেন না। কারণ তিনি কখনও কারও তেমন ঘনিষ্ঠ হতেন না। সবার সঙ্গেই সম্পর্ক ছিল, কারও সঙ্গেই গভীর ছিল না।
জনাব জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর দিন এক মুক্তিযোদ্ধা ভাবলার সিরাজ ফকিরের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলাম। এক সপ্তাহ আগে গিয়েছিলাম মোজাম্মেল হক খান জিন্নার কবর জিয়ারত করতে। ভাবলার মাঠে কথা বলছিলাম এলেঙ্গা পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড ফুলতলা ভাবলার সাদেকের সঙ্গে। আমার দলের জন্মলগ্ন থেকে হাসমত নেতার ছেলে আতিকুর রহমান সাদেক ছায়ার মতো কাজ করছে। তার বন্ধু হাবিব-উন-নবী সোহেল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের একজন একনিষ্ঠ নিবেদিত কর্মী।
আমি যখন দলীয় সফরে রংপুর, দিনাজপুর, মুজিবনগর, মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, সিলেট, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়েছি—এমন কোনো জায়গা নেই যে সে যায়নি, ছায়ার মতো অনুসরণ করেনি। সেই নিবেদিত কর্মী এলেঙ্গা পৌরসভার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। তাই সিরাজের কবর জিয়ারত করে ভাবলা স্কুল মাঠে কয়েকশ’ মানুষের সামনে কথা বলছিলাম, সাদেক আমার দলের খুবই প্রিয়। তাকে ভোট দিলে আমরা খুবই খুশি হব। ঠিক তখনই কেউ একজন জানাল জিল্লুর রহমান আর ইহজগতে নেই। জিল্লুর রহমানের বয়স হয়েছিল, আমার থেকে ১৪-১৫ বছরের বড়। তাই স্বাভাবিকভাবেই তার চলে যাবারই কথা। মানসিক প্রস্তুতিও ছিল। পরদিন ২১ মার্চ তার লাশ আনা হয় ঢাকায়। নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গভবনে। হাজার হাজার মানুষ শোক প্রকাশ করে। বায়তুল মোকাররমে জানাজা হয়। পরদিন সকালে নেয়া হয় তার আবাল্যের লীলাভূমি ভৈরবে। সেখানে বিশাল জানাজা হয়। সত্যিই লোকেরা তাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের একটা সুযোগ পায়। তারপর আবার নিয়ে আসা হয় বঙ্গভবনে। বিদেশি প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেষ জানাজা হয় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে।
তারপর তাকে কবর দেয়া হয় বা চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বনানী গোরস্তানে। গোরস্তানে এখন তেমন জায়গা নেই। হয় একেবারে তার স্ত্রীর কবরে অথবা যতটা পাশাপাশি সম্ভব কবর দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের তিনজন দায়িত্বরত রাষ্ট্রপতি ইহলোক ত্যাগ করেছেন, তার দু’জন ঘাতকের বুলেটে আর একজন জনাব জিল্লুর রহমান স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। একজন রাষ্ট্রপতিকে যতখানি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার দরকার রাষ্ট্র ততখানি দেয়ার চেষ্টা করেছে। জনসাধারণেরও যতখানি আবেগ অনুভূতি ব্যক্ত করা দরকার তা করতে তারা কার্পণ্য করেনি। শত রাজনৈতিক বিরোধকে ম্লান করে দিয়ে সবাই একাকার হয়ে গিয়েছিল তার এই মৃত্যুতে। সরকার এখানেও ব্যর্থ হয়েছে। একটা জাতীয় ঐক্য, আর কিছু না হোক একটা সৌহার্দ্যের পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ সম্পূর্ণ হাতছাড়া করেছে। আগেই বলেছি আওয়ামী কোনো অনুষ্ঠানে যেতে ইচ্ছে করে না, এমনকি সেটা জানাজা হলেও না। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির জানাজায় শরিক হতে পারিনি। আগে থেকে যে নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ছিল সেটা বাদ দিয়ে শুধু লৌকিকতার জন্য আসতে মন সায় দেয়নি।
এখন আর লোকদেখানো কিছু করতে ইচ্ছে করে না। তবে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এত শক্তিশালী যে যেখানেই থাকুক তার খবর তারা ঠিকই রাখে। মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানাতে অন্য দলের যারা গিয়েছেন তাদের তেমন সম্মান করা হয়নি। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্রপতির মরদেহে ফুলমালা দিতে যান তখন শত শত আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। কেউ স্বাগত জানাননি। সরকারি কোনো এমপি, মন্ত্রীরা কেউ সামনে যাননি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির সন্তান-সন্ততিরাও যদি এগিয়ে না আসত তাহলেইবা কী করার ছিল? এসবই তো ইতিহাস। কেউ কাউকে সম্মান করতে চায় না। জানাজায় যাওয়া হলো না, ফুলের তোরা দিতে পারলাম না তাই ২৩ তারিখ বাদ আসর কুলখানিতে বায়তুল মোকাররমে গিয়েছিলাম। গিয়েছিলাম সাড়ে চারটার দু’এক মিনিট পর।
সারাজীবন দক্ষিণ দিক দিয়ে বায়তুল মোকাররমে ঢুকেছি। পশ্চিম দিকের রাস্তা আমার জানা ছিল না। সেদিনই প্রথম পশ্চিমের গেট দিয়ে বায়তুল মোকাররমে ঢুকেছিলাম। একেবারে ইমামের কাছে বসেছিলাম। প্রথমেই চোখে পড়েছিল সাবেক আইনমন্ত্রী, বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু। অমায়িক ব্যবহার, আমাকে দারুণ সম্মান করেন। আমিও তাকে বিশ্বাস করি, সম্মান করি। বামে বসেছিলেন সাংস্কৃতিকমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, ডানে রাশেদ খান মেনন, তার ডানপাশে আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বয়সের ভারে মাটিতে বসতে পারেন না; চেয়ারে বসেছিলেন। নামাজের সময় খতিব অধ্যাপক সালাউদ্দিন সাহেবকে দেখলাম না। নতুন কেউ ইমামতি করতে দাঁড়ালেন। নামাজ শেষে কুলখানি কোথায়? দেখলাম পূর্বদিকে ইসলামী ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে মঞ্চ বানানো হয়েছে। মঞ্চ ছাড়া এখন আর আওয়ামী লীগের চলে না। তখন বুঝলাম আরও যে মন্ত্রীরা, আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা প্রথম কাতারে না গিয়ে আগেই মঞ্চে বসেছিলেন। কুলখানিতে গিয়েছিলাম, ছবি তুলতে নয়। তাই বসেছিলাম একেবারে পেছনের দিকে। আল্লাহর দয়ায় কোনো ক্যামেরা সামনে পড়েনি। অধ্যাপক সালাউদ্দিন একজন পণ্ডিত মানুষ। দারুণ সুন্দর কণ্ঠ, মায়াময় দরদী কণ্ঠে মিলাদ পড়েন। কিন্তু অধিকাংশ শ্রোতা আওয়ামীপন্থী হওয়ার কারণেই কিনা অত সুন্দর দরদী কণ্ঠও মসজিদে উত্তেজনা ছাড়া কোনো দরদ সৃষ্টি করতে পারেনি।
মনে হয় এ ধরনের এবাদতে আল্লাহর নৈকট্য পাওয়া সত্যিই মুশকিল। মিলাদ মাহফিল শেষে বঙ্গভবনে গিয়েছিলাম। ভাবছিলাম যদি গেট খোলা থাকে শোক বইয়ে একটা স্বাক্ষর করে আসি। গিয়ে দেখলাম সেখানেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতির চেহলামের আয়োজন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রায় সবাই চলে গেছে। বঙ্গভবনে ঢুকেই জিজ্ঞেস করছিলাম, শোক বই কোথায়? এক প্রটোকল অফিসার মিলাদের তোবারক নিয়ে যাচ্ছিল। সে ছুটে এসে বলল, স্যার, আমার কাছে। এখন আর স্বাক্ষরের কেউ নেই বলে নিয়ে যাচ্ছিলাম। স্বাক্ষরের জন্য বসলাম সেখানে। যেখানে ১৯৭৫ সালে এক মাস গভর্নর ট্রেনিং নিয়েছিলাম তারই দরজার সামনে। মাত্র দু’লাইন লিখেছি, ‘যখন তার খুবই বেশি প্রয়োজন, তখনই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। পরম দয়াময় প্রভু তাকে ক্ষমা করুন।’ বেরিয়ে আসার পথে বঙ্গভবন থেকে কয়েক প্যাকেট তোবারক দিয়েছিল, যা সশ্রদ্ধচিত্তে বাড়ি বয়ে এনেছিলাম।

 Posted by at 7:53 am

 Leave a Reply

(required)

(required)

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>