Untitled Document
** সিরাজগঞ্জের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার ** লাকসামে গৃহবধুকে ধর্ষনের দায়ে এক যুবক গ্রেফতার ** প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ! ** চৌদ্দগ্রামে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে দুই গরু ব্যবসায়ী ** চৌদ্দগ্রামে গভীর রাতে মাটি ভরাট করে সরকারী জায়গা দখলের চেষ্টা ** বাগেরহাটের ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ২ ** বড় ভাইকে গলা কেটে হত্যা, করল সৎভাই ** নিউজ টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকদের ওপর হামলা ** বেড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ – যুবক আটক ** নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত ** কুমিল্লায় স্কুল ছাএীকে অপহরণকালে লাকসামে যুবক এক আটক ** সিংড়ায় স্কুল ছাত্রকে বলাৎকার এর অভিযোগ ** মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক হাসু-কাসু বাহিনীর প্রধান আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে গ্রেপ্তার ** কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত ** পঁচিশে মার্চ একাত্তর- এক কালরাতের কাহিনী
Mar 252013
 

নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আবারো অস্বীকার করেছেন সাবেক এমপি শামীম ওসমান।

রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কাব লিমিটেডে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর ব্যানারে ত্বকী হত্যা নিয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, “ত্বকীর নিখোঁজ হওয়া ও পরে লাশ উদ্ধারের সময়ে আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এ হত্যাকাণ্ডে আমার সক্রিয় অংশগ্রহণের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা কোনভাবেই সত্য না। এতেই প্রমাণিত হয়, প্রকৃত খুনিদের আড়াল ও তাদের বাঁচানোর জন্যই আমার ছেলেসহ আমাকে ও অন্যদের নাম অন্যায়ভাবে জড়ানো হচ্ছে, যা আইন সিদ্ধ না। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমার বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া না হয়, তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।”

এ নিয়ে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর দ্বিতীয় দফায় সংবাদ সম্মেলন করলেন শামীম ওসমান। এর আগে ১৬ মার্চ শামীম ওসমান চাষাঢ়ায় হীরা মহলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান তার নিজের পাসপোর্ট উঁচিয়ে বলেন, “এ পাসপোর্টেই আমার দেশত্যাগ ও দেশে অবরতণের ইমিগ্রেশনের সীলমোহর রয়েছে।”

কোন দেশ অবস্থান করেছিলেন তা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তদন্তের স্বার্থে যে কোনো সময়ে আমার এ পাসপোর্ট নিয়ে যাচাই-বাছাই করতে পারবে।”

শামীম ওসমান বলেন, “ত্বকীর লাশ পাওয়ার ২০ মার্চ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমাকে ও আমার ছেলে অয়ন ওসমানসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করে একটি অবগতিপত্র দেয়। যেখানে বলা হয়, আমার ও অন্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণেই ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। আইনের ভাষায় সক্রিয় কথাটির অর্থ হচ্ছে নিজে উপস্থিত থেকে হয়তো আমি নিহত ব্যক্তির হাত-পা অথবা শরীর স্পর্শ করে হত্যা করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো ৬ মার্চ ত্বকী নিখোঁজের আগে থেকেই আমি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলাম। এছাড়া ৭ মার্চ লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্তও আমি দেশের বাইরে ছিলাম।”

শামীম ওসমান অভিযোগ করেন, “এ ধরনের অবগতিপত্র কোনভাবেই পুলিশ সুপার গ্রহণ করতে পারেন না। কারণ এ ধরনের অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া যেতে পারে।”

বিভিন্ন মিডিয়াতে পুলিশ সুপারের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিকেও আপত্তিজনক উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, “ত্বকী হত্যার ঘটনায় প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সে অবস্থায় বার বার মিডিয়া আর টক-শোতে পুলিশ প্রশাসন কথা বলে সময় ক্ষেপণ করছে। আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনও চাপে রয়েছে। কারণ পুলিশ সুপার বলছেন, ত্বকীর বাবার আবেদনের পরেই রিফাত নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে রিফাতকে ত্বকীর লাশ উদ্ধারের একদিন পর ৯ অথবা ১০ মার্চ আটক করা হয়েছে বলেও মিডিয়াতে খবর প্রকাশিত হয়েছে।”

শামীম ওসমান বলেন, “প্রকৃতপক্ষে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ভিন্ন দিকে নেওয়া ও প্রকৃত খুনিদের বাঁচানোর জন্যই চেষ্টা চলছে। আইভী (নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী) ও অতি বাম ঘরানার কিছু লোক এ মামলাটি ভিন্ন দিকে নিচ্ছে। হত্যার কারণ ভিন্ন দিকে নেওয়ার বিষয়টিও অপরাধ। তদন্তকালীন মামলায় কাউকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেওয়াটাও সঠিক কাজ না।”

গত শুক্রবার চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে শামীম ওসমান বলেন, “যেখানে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশে শোক চলছে, সেখানে এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে প্রার্থী ঘোষণার পেছনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ এ ঘটনার পেছনে প্রধানমন্ত্রীকেও জড়ানোর চেষ্টা চলছে। ত্বকী হত্যা নিয়ে এখন নোংরা রাজনীতি করছে। ৮ মার্চ বিকেলে শহীদ মিনারে ত্বকীর লাশ আনার পরেই আইভী বিশেষ পরিবারকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।”

সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি সেলিম ওসমান, সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল হক, বিকেএমইএ-র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন, বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু ও আলেয়া বেগম, জেলা যুবলীগ সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ বিরাজ কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গোপীনাথ দাস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দিপু, পরিবহন নেতা মুক্তার হোসেন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সহ-সভাপতি ওয়াজেদ আলী খোকন, অর্থ সম্পাদক মাসুদুর রহমান খসরু, সম্মিলিতি আইনজীবি সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি মাসুদুর রউফ, পরিবহন নেতা শহীদুল্লাহ, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা, যুবলীগ নেতা শাহ নিজাম, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, ব্যবসায়ী নেতা মেজবাহউদ্দিন ভুলু, শহর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, আদালতের এপিপি মেরিনা বেগম, স্পেশাল পিপি রাকিবুজ্জামান প্রমুখ। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ৩২টি স্থানীয় ও ৭টি জাতীয় ভিত্তিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ তার ছেলে ত্বকী শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। ৮ মার্চ সকাল পৌনে ১০টায় শহরের চারারগোপের শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জে নজিরবিহীন হরতাল পালিত হয়। ১০ মার্চ শহরের ত্বকীর বাসায় এসে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সারাহ বেগম কবরী গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। সেদিন রফিউর রাব্বি ও এমপি কবরী দুইজনই হত্যার জন্য বিশেষ মহলকে দায়ী করেন। ১৫ মার্চ চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও রফিউর রাব্বি হত্যার জন্য সরাসরি শামীম ওসমানকে দোষারোপ করেন। পরদিন ১৬ মার্চ শামীম ওসমান এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ষড়যন্ত্র করে আইভী ও অন্যরা মিলে তাকে দোষারোপ করছেন। ওইদিন রাতেই শামীম ওসমান বাদী হয়ে আইভীর বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। ১৭ মার্চ আইভীর বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। ওই রাতেই নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে রফিউর রাব্বিকে আহ্বায়ক করে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট ‘সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ’ গঠন করা হয়।

১৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ প্রেস কাবে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৮ মার্চ রাতেই ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, যুবলীগ নেতা পারভেজ, জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি রাজীব দাস, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সালেহ রহমান সীমান্ত ও রিফাতকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের কাছে অবগতিপত্র দেয়। ২০ মার্চ পুলিশ এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তার অভিযোগে রিফান বিন ওসমানকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়।

 Posted by at 7:38 am

 Leave a Reply

(required)

(required)

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>