Untitled Document
** সুন্দরবনে হারিয়ে যাওয়া কিশোরকে উদ্ধার ** হাত ধোয়ার কর্মসূচি না টাকার শ্রাদ্ধ ** যমুনায় নৌকাডুবি: আরও ৫ জনের লাশ উদ্ধার ** ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ ** দিনাজপুরে সরকার সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা মন্তব্য ও গুজব ছড়ানো: যুবক গ্রেপ্তার ** মেয়ের সামনে মাকে গণধর্ষণ : গ্রেপ্তার ১ ** ঝুঁকিপূর্ণ নারায়নগঞ্জে খুলেছে ১৯১টি কারখানা ** গাজীপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত ** বেঁচে আছেন’ কিম জং উন ** ভুলের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী -ইরিন রিয়া,সভাপতি,যুব মহিলালীগ,খিলক্ষেত থানা ** কিশোরগঞ্জে মাছ চুরিকে কেন্দ্র করে নিহত এক ** ১০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ দেশ ** ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ছুরির আঘাতে এক যুবক নিহত ** খুলনায় জ্বর ও শ্বাসকষ্টে একজনের মৃত্যু ** কানাইঘাটে দোকান বন্ধ করতে বলায় পুলিশকে ধাওয়া
Mar 242013
 

জিল্লুর রহমান: সমস্যা হবে কেন? তিনি তো আমার নেত্রী হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিবারে তাঁর জন্ম। রাজনীতির মধ্য দিয়ে তিনি বড় হয়েছেন সম্পূর্ণ রাজনীতিমনস্ক ব্যক্তি তিনি। পিতার আদর্শ, সাহস ও দেশপ্রেমের তিনি যোগ্য উত্তরসুরী। পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতিটা তিনি খুব ভালোভাবে বুঝেছেন বলেই বারবার বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমানে আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দু’বারই তিনি দলকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন। মানুষ তার প্রতি আস্থা রেখেছে। তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে যে সকল পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলো তো সাফল্য এনেছে। জনগণ উপকৃত হয়েছে। দলকে তিনি অনেক সংগঠিত করেছেন, কাজকর্মে অনেক শৃঙ্খলা এনেছেন। সারাদেশ থেকে অনেক নতুন ও তরুণ নেতা তৈরি করেছেন, যাদের অনেকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন এবার। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে পরিশ্রম করেন, তার মধ্যেও দলের প্রতি তার নজর থাকে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি সারা দেশ ঘুরে মানুষকে কাছে টেনেছেন। ২০০১ সালের পরও তিনি দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়েছেন। তার ওপর বারবার আঘাত এসেছে, তিনি কিন্তু কখনও বিচলিত হননি। সর্বশেষ ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার কথা একবার মনে করুন। কী ভয়াবহ নৃশংসতা ছিল তাদের। শেখ হাসিনা ছিলেন প্রধান টার্গেট। সেই সঙ্গে যারা মরে মরুক- এই তো ছিল উদ্দেশ্য। দেশের একটা প্রধান ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্বশূন্য করার এই নিষ্ঠুর পরিকল্পনা কি করে কেউ নিতে পারে? এটা হলো প্রতিহিংসার রাজনীতি।

বেবী মওদুদ: শেখ হাসিনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর কোন গুণগুলো আপনি লক্ষ্য করেছেন?

জিল্লুর রহমান: বঙ্গবন্ধু ছিলেন উদার ও সরল মনের মানুষ, আবার প্রয়োজনে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতেন। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঝুঁকি নিতে পারতেন, আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। শেখ হাসিনার মধ্যে পিতার এই গুণটি সম্পূর্ণভাবে আছে। তিনি দায়িত্ব নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সফলও হয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, শেখ হাসিনা সংস্কৃতিবান, শুদ্ধতম আদর্শ বাঙালি।

বেবী মওদুদ: আপনি সেই ১৯৪৬ সালে কলেজের ছাত্র থাকাকালে রাজনীতিতে এসেছেন। প্রথমে ছাত্র রাজনীতি তারপর জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব অবস্থায় থেকে দেশের রাজনীতিকে গভীরভাবে দেখেছেন। আপনার কোনও পর্যবেক্ষণ আছে কি?

জিল্লুর রহমান: আমার বয়স তো এখন আশির ওপর। সেই সতেরো বছর বয়সে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের তারা বিদায় নিয়েছে। স্বাধীনতার সেই আস্বাদ তো ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকদের বিমাতাসুলভ আচরণ এবং বাঙালি দমনের ষড়যন্ত্র, আর তার সঙ্গে ক্ষমতালোভী বাঙালি রাজনীতিবিদদের আচরণ আমাদের শুধু স্তম্ভিত করেনি, আমাদের রাজনীতি করতে বাধ্য করেছে। কলকাতা থেকে ফিরে বঙ্গবন্ধুই রাজনীতিতে নতুন ধারা আনলেন। আমার মনে হয় তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, মুসলিম লীগের সঙ্গে আর থাকা যাবে না। তাই নতুন করে দল গঠন ও দলের উদ্দেশ্য প্রস্তুত করেন। প্রথমে ছাত্রলীগ গঠন করলেন, তারপর আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করলেন। এর মধ্য দিয়ে তরুণ, মেধাবী, প্রগতিশীল ও আত্মত্যাগী নেতাকর্মীদের সংগঠিত করলেন যাতে মুসলিম লীগের বিরোধী একটি শক্তি হয়ে ওঠে। এই শক্তিকে দিয়েই তিনি তাদের মনে আতংক সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তারাও বিভেদ সৃষ্টি করেছিল। মওলানা ভাসানী চলে গেলেন, অনেক সুবিধাভোগী ও ক্ষমতালোভী মুখ দেখা গেলো যারা পাকিস্তানী শাসকবর্গকে প্রভু মনে করতো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যখন ছয় দফা ঘোষণা করে বললেন- এটা বাঙালির বাঁচার এবং বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাঁর রাজনীতি- তখন তারা হতভম্ব হয়, ভীত হয় যে, এরপর চামড়া বাঁচাবে কীভাবে? আইয়ুবের নির্দেশ মত তারাও জোট করেছে, ছয় দফাকে পাকিস্তান ভাঙ্গা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বলেছে- এমনকি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়েও রক্ষা পায়নি। সেই তো মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। বঙ্গবন্ধু যে প্রকৃতপক্ষে বাঙালির স্বার্থরক্ষা করতে ছয়দফা দিয়েছিলেন, এটা তো মানুষ বুঝতে পেরে তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল।

জনগণকে বাদ দিয়ে কোন বিপ্লব বা আন্দোলন সফল হতে পারে না। বর্তমানে দেশে রাজনীতির পরিবেশ তা নতুন কিছু নয়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আছে, তারা জনগণের কাছেই ফিরতে হবে। এখন যারা রাজনীতি করছেন, তাদের পুরোনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে থাকলেও চলবে না। বিশ্বকে জানতে হবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে। জনগণের ভোটই হচ্ছে আসল কথা। সেটা পেতে হলে তাদের জন্য কাজ করতে হবে, তাদের পাশে থাকতে হবে। একবার দু’বার ভোলাতে পারেন অর্থ ও অপপ্রচার চালিয়ে, কিন্তু বারবার নয়।

 Posted by at 3:21 pm

 Leave a Reply

(required)

(required)

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>