‘আমি এসবির ইন্সপেক্টর, আপনার পাসপোর্টের ফাইল আমার কাছে’

গোয়েন্দা রিপোর্টে : মো. মহসীন আলম মোল্লা ২০ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে তাঁর মা ও স্ত্রীর জন্য পাসপোর্টের আবেদন করেন। এর পাঁচ দিন পর এসবি পরিচয় দিয়ে ফোন করে বলা হয়, ‘আমি এসবি অফিস থেকে ইন্সপেক্টর রফিক বলছি। আপনি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। আপনার ফাইল আমার কাছে আছে।’

মহসীনের কাছে ওই ব্যক্তি তিন হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি তৎক্ষণাৎ দেড় হাজার টাকা বিকাশ করেন। ঠিক পরদিনই পাসপোর্টের তদন্তের জন্য মালিবাগ এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) অফিস থেকে তাঁকে ডাকা হলে তিনি বুঝতে পারেন, এর আগে পরিচায়দানকারী এসবির ভুয়া সদস্য ছিলেন।

একই চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তাঁর কাছেও পাসপোর্ট তদন্তের জন্য দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি এসবি পরিচয়দানকারী সদস্যকে টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে এসবি অফিসে গিয়ে বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের পাশে একটি স্টুডিও ও ফটোকপির দোকানের সামনে থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রোর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে এই প্রতারক চক্রের তিনজনকে আটক করে।

আজ শুক্রবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, পাসপোর্ট তদন্তের জন্য পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া সংঘবদ্ধ পেশাদার এই প্রতারক চক্রের প্রধান মো. রাকিব মিয়া, মো. কামাল হোসেন ও মো. সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরই পিবিআই অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মুঠোফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এমন প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও চারজনের ব্যাপারে তথ্য দিয়েছেন। ওই চারজন পলাতক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রতারক চক্রটি আগারগাঁও ঢাকার পাসপোর্ট অফিস এলাকার বিভিন্ন ফটোকপির দোকানদার ও দালালদের কাছ থেকে প্রতিটি আবেদন ফরমের কপি ২০০-৩০০ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে থাকে। সেই ফরমে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন করে এসবি মালিবাগ, ঢাকার পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে আবেদনকারীদের কাছে ভেরিফিকেশনের খরচ বাবদ টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়। প্রতিদিন তারা ৪০ থেকে ৫০ জন আবেদনকারীকে ফোন করে থাকে। ফোন করার জন্য তারা নিরিবিলি স্থান হিসেবে শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠসহ বিভিন্ন স্থান বেছে নেয়। আবেদনকারীকে তারা আবেদন করার দুই-তিন দিন পর অফিস খোলার দিন এবং অফিস সময়ই ফোন করে। বেশির ভাগ সময় আবেদনকারীরা দেখা করতে চাইলে তারা বলে, ‘খরচের বিষয় আছে, আপনি আমার বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠিয়ে দেন। আমি রিপোর্ট যথাসময়েই পাঠিয়ে দেব।’

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর এসআই এমদাদুল হক বাদী হয়ে এই চক্রের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন।

Leave a Reply